আমাদের দেশে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর হাজার ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ফলে বিদ্যুতপ্রবাহ শরীরের রক্ত সঞ্চালনা প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে স্নায়ুতন্ত্র এবং শ্বসনতন্ত্রকে আঘাত করে প্রকাণ্ডভাবে। ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। শরীরের টিসুগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎপ্রবাহের ফলে গভীর দাহের সৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তি ভেজা কাপড় পড়া থাকলে কিংবা শরীর ভেজা থাকলে বিদ্যুতের আঘাত তীব্রতর হয়। ব্যক্তির হৃদযন্ত্র শ্বাসতন্ত্র ও মস্তষ্কের প্রাথমিক অসাড়তার কারণে মৃত্যু ঘটে। ওই ব্যক্তিকে অন্য কেউ স্পর্শ করলে তারও একই পরিণতি হবে।
যা করবেন :

১. বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তি যদি তখনো বিদ্যুতের আওতাধীন থাকে অর্থাৎ তার শরীরে কিংবা হাতে পায়ে তার জড়ানো থাকে তাহলে প্রথমেই মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে কিংবা সকেট থেকে প্লাগ সরিয়ে ফেলতে হবে।

২. যদি উপরি উক্ত ব্যবস্থা না করা যায় তবে বিদ্যুৎ অপরিবাহী কিছু দিয়ে ব্যক্তির শরীর থেকে বৈদ্যুতিক তার সরিয়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে লম্বা, একেবারে শুকনা বাঁশ বা লাঠি, একটি শুকনো দড়ি কিংবা লম্বা শুকনো কাপড় ব্যবহার করা যেতে পারে।

৩. বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে রক্ষাকারীর হাত দুটো অবশ্যই শুকনো রাখতে হবে ও শুকনো কোনো কিছুর ওপর দাঁড়িয়ে কাজটি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পায়ে স্পঞ্জের স্যান্ডেল থাকতে হবে।

৪. বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে বিদ্যুৎপ্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন করার সাথে সাথেই যদি দরকার হয় কৃত্রিম শ্বসনপ্রক্রিয়া চালু করতে হবে ও বাইরে থেকে বুকে চাপ দিয়ে (হৃদযন্ত্র) তাকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

৫. প্রয়োজনে রোগীকে উপুড় করে রোগীর এক হাত লম্বা করে এবং অন্য হাতটি ভাঁজ করে মাথার নিচে রেখে রোগীর পিঠে চাপ দেয়া যেতে পারে।

৬. এরপর দ্রুত রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এই সময় রোগীর দেহে জলীয় উপাদানের ঘাটতি দেখা যায়। তাই রোগী যেন প্রচুর জলীয় উপাদান পায় সে দিকে নজর দিতে হবে।

লেখক :
স্বাস্থ্য নিবন্ধকার, গল্পকার ও সহযোগী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমা বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল।

মাত্র দুটি উপাদান মাথায় নতুন চুল গজাতে দারুন সহায়ক!

চুল পড়া সমস্যায় ছেলে মেয়ে উভয়ই ভুক্তভোগী। নতুন চুল গজানোর জন্য কত রকমের হেয়ার প্যাক, কত প্রোডাক্ট ব্যবহার করে থাকি আমরা। এইসব রাসায়নিক পণ্য ব্যবহারে নতুন চুল গজানোর চাইতে চুলের ক্ষতি করে থাকে বেশি। অথচ আমাদের হাতের কাছে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই নতুন চুল গজানো সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন হবে শুধু মাত্র দুটি উপাদানের!

যা যা লাগবে

১/ নারকেল তেল

২/ লেবুর রস।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

১। ৫-৬ টেবিল চামচ নারকেল তেল।

২। ২-৩ ফোঁটা লেবুর রস।

৩। নারকেল তেল এবং লেবুর রস খুব ভাল করে মিশিয়ে নিন।

৪। আঙুল দিয়ে মাথার তালুতে আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করুন।

৫। এভাবে ১০ থেকে ২০ মিনিট ম্যাসাজ করুন।

৬। এটি চুলে ২ ঘন্টা রাখুন, তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

৭। এটি সবসময় শ্যাম্পু করার আগে ব্যবহার করুন। সর্বোচ্চ ২ ঘন্টা এটি মাথায় রাখবেন এর বেশি নয়।

যেভাবে কাজ করে

-নারকেল তেল মাথার তালুতে পুষ্টি যুগিয়ে হাইড্রেডেট করে থাকে। নিয়মিত ব্যবহারে যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে থাকে। এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান চুল এবং মাথার তালুর জন্য অনেক উপকারী।

-লেবু সাইট্রাস জাতীয় ফল। এতে ভিটামিন সি আছে যা চুল থেকে খুশকি, অতিরিক্ত তেল দূর করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

অন্যভাবে ব্যবহার

১। নারকেল তেল এবং বাদাম তেল মিশিয়ে হালকা গরম করে ১০-১৫ মিনিট মাথার তালুতে ম্যাসাজ করুন। ১ ঘন্টার পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

২। ১ টেবিল চামচ শুকনো আমলকির গুঁড়ো এবং ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল চুলায় জ্বাল দিয়ে নিন। ঠান্ডা হয়ে গেলে মাথায় ম্যাসাজ করুন। সারা রাত এভাবে রাখুন। সকালে শ্যাম্পু করে ফেলুন। ভাল ফল পেতে সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করুন। এটিও নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।

৩। লেবুর রস এবং টক দই মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করতে পারেন। এটি চুলের খুশকি দূর করে মাথার তালু পরিষ্কার করে থাকে। যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে থাকে।

বিনা পয়সার যে খাবারটি আজীবন যৌবন ধরে রাখে ও নতুন চুল গজায়ঃ দেখে নিন কিভাবে খাবেন |

সমস্যা সমাধান ও রোগ নিরাময়ের জন্য আমরা কত কিনা করি। চিকিৎসা করতে গিয়ে বেশ ক্ষতি ডেকে আনি নিজেদের জন্যই। কষ্ট লাঘবে তখন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টা মাথায় থাকে না। বিশেষ করে টাইফয়েড জ্বর, ডায়রিয়া, কলেরার মতো পেটের রোগে অ্যান্টিবায়োটিকও চলে আকছার। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত ওই সব ওষুধগুলির দামও অনেক সময় নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে হয়ে যায়। অথচ আমাদের হাতের কাছেই কিছু ভেষজ গাছ রয়েছে, যেগুলি অত্যন্ত অল্প দামে বা একটু খুঁজলে বিনামূল্যেও পাওয়া যায়, আমরা জানি না। অনেক সময় জেনেও, বিশ্বাস হয় না। তেমনই একটি ভেষজ উদ্ভিদ হল থানকুনি।

থানকুনি আমাদের অতিপরিচিত পাতা। পুকুরপাড় বা জলাশয়ে হামেশাই দেখা মেলে। কথায় বলে, পেট ভালো থাকলে মনও ফুরফুরে থাকে। চিকিত্‍সকরাই বলছেন, থানকুনি পাতার এমন ভেষজ গুণ রয়েছে, মিয়মিত খেতে পারলে, পেটের অসুখে কোনও দিনও ভুগতে হবে না। শরীর-স্বাস্থ্য তো সতেজ থাকেই, ছোট থেকে খাওয়াতে পারলে বুদ্ধিরও বিকাশ হয়। দেখে নেওয়া যাক, যৌবন ধরে রাখতে ও সুস্থ থাকতে থানকুনি পাতার ভেষজ গুণগুলি।

১. পেটের রোগ নির্মূল করতে থানকুনির বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলে যে কোনও পেটের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একই সঙ্গে পেট নিয়ে কোনও দিনও সমস্যায় ভুগতে হয় না।
২. শুধু পেটই নয়, আলসার, এগজিমা, হাঁপানি-সহ নানা চর্মরোগ সেরে যায় থানকুনি পাতা খেলে। ত্বকেও জেল্লা বাড়ে।
৩. থানকুনি পাতায় থাকে Bacoside A ও B। Bacoside B মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে ও রক্ত চলাচল বাড়ায়। থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
৪. থানকুনি স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
৫. মৃতকোষের ফলে চামড়ায় অনেক সময়ই শুষ্ক ছাল ওঠে। রুক্ষ হয়ে যায়। থানকুনি পাতার রস মৃতকোষগুলিকে পুনর্গঠন করে ত্বক মসৃণ করে দেয়।
৬. পুরনো ক্ষত কোনও ওষুধেই না সারলে, থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে তার জল লাগালে সেরে যায়। সদ্য ক্ষতে থানকুনি পাতা বেটে লাগালে, ক্ষত নিরাময় হয়ে যায়।
৭. থানকুনি পাতা চুল পড়া আটকে দেয়। এমনকি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।
৮. বয়স বাড়লেও, যৌবন ধরে রেখে দেয় থানকুনি পাতার রস। প্রতিদিন একগ্লাস দুধে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে, চেহারায় লাবণ্য চলে আসে। আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়।
৯. দাঁতের রোগ সারাতেও থানকুনির জুড়ি মেলা ভার। মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে বা দাঁতে ব্যথা করলে একটা বড় বাটিতে থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে, তারপর ছেঁকে নিয়ে সেই জল দিয়ে কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায় চটজলদি।

Comments

comments