ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে আবহাওয়ার কারণেই চুলে খুশকির উপদ্রব অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে শীতকালে কমবেশি সকলেই খুশকির যন্ত্রণায় ভুগে থাকেন। এর মূল কারণ হচ্ছে রুক্ষ আবহাওয়া এবং পরিবেশের ধুলোবালি যা মাথার ত্বকে খুশকির উপদ্রব বাড়ায়।
তবে খুশকির উপদ্রব দ্রুত দূর করার রয়েছে বেশ কিছু কার্যকরী ঘরোয়া উপায়। একটু সময় বের করে নিয়ে এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করলে মুক্তি পাবেন যন্ত্রণাদায়ক খুশকির হাত থেকে।

১) বেকিং সোডার ব্যবহার

মাথা ভালো করে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিন। এরপর বেকিং সোডা আঙুলের ডগায় লাগিয়ে পুরো মাথার ত্বকে ঘষে ঘষে লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট পর চুল পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পু দেবেন না। পরের দিন শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলবেন। সপ্তাহে ১ বার ব্যবহারে ভালো ফল পাবেন।

২) নারকেল তেল ও লেবুর রসের ব্যবহার

৩ টেবিল চামচ নারকেল তেল ও ২ টেবিল চামচ লেবুর রস একসাথে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি চুলের গোঁড়ায়, মাথার ত্বকে ভালো করে ঘষে লাগিয়ে ম্যাসাজ করে নিন। ২০-২৫ মিনিট চুলে রেখে সাধারণভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২/৩ বার ব্যবহারে দ্রুত খুশকির হাত থেকে মুক্তি পাবেন।

৩) সাদা ভিনেগারের ব্যবহার

সাদা ভিনেগার পুরো চুলে ও মাথাত ত্বকে তেলের মতো করে লাগিয়ে নিন। একটু বেশি করে লাগিয়ে নেবেন মাথায়। একটি তোয়ালে দিয়ে পুরো মাথা পেঁচিয়ে সারারাত রাখুন। পরের দিন সকালে চুল ধুয়ে ফেলুন শ্যাম্পু করে। সপ্তাহে ২ বার করুন, খুশকি দ্রুত দূর হবে।

৪) অ্যাসপিরিন ট্যাবলেটের ব্যবহার

৩ টি অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট গুঁড়ো করে নিন। ১ টেবিল চামচ ভিনেগারে এই ট্যাবলেট গুঁড়ো গুলিয়ে নিয়ে মাথার ত্বকে ঘষে লাগিয়ে নিন। দেড় ঘণ্টা মাথায় রেখে মিশ্রণটি ধুয়ে ফেলুন পানি দিয়ে। খুশকির সমস্যা দ্রুত গায়েব হয়ে যাবে।

৫) মারাত্মক খুশকির সমস্যার জন্য মেথির ব্যবহার

মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেঁকে নিয়ে বেটে নিন ভালো করে। ছেঁকে নেয়া পানি ফেলে দেবেন না। এবার বেটে নেয়া মেথি চুলের গোঁড়ায় মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ৩-৪ ঘণ্টা রেখে চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। চুল ধোয়ার পর মেথি ভিজিয়ে রাখা পানি দিয়ে সব শেষে চুল ধুয়ে নিন। এভাবে সপ্তাহে ২ বার করুন। অনেক বেশি খুশকির সমস্যা থাকলেও তা দূর হয়ে যাবে।

হাতের আঙুলের গিঁটের কালো দাগ দূর করার সহজ ৩টি উপায়

অনেকের মুখের সাথে হাতের রং এর পার্থক্য থাকে । তবে অনেকের হাতের আঙ্গুল এবং হাতের তুলনায় হাতের গিঁটে কালো দাগ থাকে বেশি । যা হাতের সৌন্দর্য নষ্ট করে দিয়ে থাকে । হাতের গিটেঁর এই কালো দাগের জন্য পড়তে হয় অস্বস্তিতে । হাতের গিঁটের এই কালো দাগ দূর করে ফেলুন সহজ ঘরোয়া উপায়ে ।

১। লেবু এবং চিনির স্ক্রাব

২ চা চামচ মধু, ১ চা চামচ লেবুর এবং ১ চা চামচ চিনি ভাল করে মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণটি দিয়ে আঙ্গুলের গিঁটে ম্যাসাজ করে লাগান। এভাবে ১৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন। লেবুর ব্লিচিং এজেন্ট কালচে দাগ দূর করে এবং মধুর প্রাকৃতিক ময়েসচারাইজার ত্বকের রুক্ষতা দূর করে মসৃণভাব ফুটিয়ে তোলে। যা আঙুলের গিঁটের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে।

২। দুধের সর এবং হলুদের গুঁড়ো

১ চা চামচ দুধের সর এবং ১/২ চা চামচ হলুদের গুঁড়োর সাথে ২-৩ ফোঁটা বাদামের তেল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এবার প্যাকটি আঙুলের গিঁটসহ কালো হয়ে যাওয়া ত্বকে ম্যাসাজ করে লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দ্রুত ফল পেতে এটি সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করুন।

৩। দুধ এবং ভিটামিন ই ক্যাপসুল

১ চা চামচ দুধ, দুধের সরের সাথে একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে নিন। এই পেস্টটি ত্বকে ম্যাসাজ করে ১০ মিনিট লাগিয়ে নিন। এটি আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন।

বিশ্বসেরা ৬টি ফাউন্ডেশনের নাম ও উপকারীতা গুলো 

ত্বকের কালো দাগ , ব্রণের দাগ ঢেকে মসৃণ ত্বক পাওয়ার জন্য ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা হয় । যেকোনো ভারী সাজ তো বটে হালকা সাজেও নারীরা ফাইউন্ডেশন ব্যবহার করে থাকেন । ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা হয় । বাজারে নানান ব্র্যান্ডের ফাউন্ডেশন কিনতে পাওয়া যায় । এত ফাউন্ডেশনের মধ্যে সেরা কিছু ফাউন্ডেশন নিয়ে আজকের এই ফিচার ।

১। রেভলন কালারস্টে ফাউন্ডেশন

এই ফাউন্ডেশনটি মিশ্র ত্বক থেকে তৈলাক্ত ত্বক সবধরণের ত্বকের জন্য প্রযোজ্য । ত্বকে ম্যাট ফিনিষ এনে দেয় , কোনো তেলতেলে ভাব নেই এমনকি এটি ত্বককে ব্ল্যাক হেডস থেকে রক্ষা করে থাকে । ত্বকে কোনো প্রকার ছাপ ছাড়া দীর্ঘ সময় ত্বকে ফাউন্ডেশন ধরে রাখে ।

২। মেবেলাইন ফিট মি ম্যাট

বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড মেবেলাইন ফিট মি ম্যাট ফাউন্ডেশনটি সব ধরণের ত্বকের সাথে মানিয়ে যায় । হালকা এই ফাউন্ডেশনটি খুব সহজে ত্বকের সাথে মিশে যায় । ব্রণপ্রবণ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এটি একটি আর্দশ ফাউন্ডেশন । এটি ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল শুষে ব্রণ হওয়া প্রতিরোধ করে থাকে । ডার্মাটোলজিস্ট দ্বারা এটি পরীক্ষিত , তাই নির্ভাবনায় ব্যবহার করতে পারেন ।

৩। লোরিয়াল ট্রু ম্যাচ সুপার ব্লেন্ডেবল মেকআপ

এসপিএফ ১৭ সমৃদ্ধ এই ফাউন্ডেশনটি সবধরনের ত্বকের সাথে মানিয়ে যায় । অনেকগুলো শেডে পাওয়া যায় এটি । মেকআপে ন্যাচারাল লুক পেতে চাইলে এই ফাউন্ডেশনটি ব্যবহার করতে পারেন । তবে এটি দিয়ে ভারী মেকআপ করা কিছুটা কঠিন । ভারী মেকআপ করতে চাইলে এর সাথে অন্যান্য প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত ।

৪। নিউট্রোজেনা নারিশিং লং ওয়ার মেকআপ

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট , ভিটামিন এ , সি , ই এবং সয়া সমৃদ্ধ এই ফাউন্ডেশনটি নিখুঁত পেতে সাহায্য করে । পরীক্ষিত হয়েছে চার সপ্তাহের মধ্যে এটি ত্বকের টেক্সচার অনেক উন্নত করে ।

৫। নিক্স মিনারেল স্টিক ফাউন্ডেশন

হালকা এই ফাউন্ডেশনটি ত্বকে খুব সহজে মিশে যায় । প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য এটি একটি আর্দশ ফাউন্ডেশন । কনট্যুরিং করতে চাইলে এটি ব্যবহার করতে পারেন । ফাউন্ডেশন এবং কন্যটুরিং উভয়ের কাজ করে দেবে এই একটি ফাউন্ডেশন ।

৬। রেভলন কালারস্টে হুইপড ফাউন্ডেশন

রেভলোনের এই ফাউন্ডেশনটি দীর্ঘসময় ত্বকে স্থায়ী হয় । এটি ত্বকে মসৃণ একটি ফিনিশিং এনে দেয় । তবে কাঁচের বোতল হওয়ায় ভ্রমণে বহনে ব্যবহারে সর্তক থাকা উচিত ।

Comments

comments