কোকোনাট বা নারিকেল! সৌন্দর্যের জগতে পরিচিত একটি নাম। কোকোনাট অয়েলের গুণের কথা তো আমরা সবাই-ই জানি। কোকোনাট থেকে যে মিল্ক পাওয়া যায় সেটা অনেকে জানলেও এর গুনের কথা খুব বেশী জানেন না অনেকেই।

কোকোনাট মিল্ক খুবই রিচ একটা উপাদান। ত্বক ও চুলের যত্নে কোকোনাট মিল্কের বহু রকমের উপকরিতা এবং ব্যবহার রয়েছে।  কোকোনাট মিল্কে রয়েছে প্রচুর নিউট্রিশনস এবং ভিটামিন সি, ই, বি ১, বি ৩, বি ৫, বি ৬। এটি খুবই ময়েশ্চারাইজিং একটা উপাদান। এছাড়াও এতে রয়েছে মিনারেলস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি। আজ ত্বক এবং চুলের যত্নে এই কোকোনাট মিল্কের ব্যবহার নিয়ে আপনাদের জানাব। চলুন তাহলে দেরি না করে জেনে নেয়া যাক।

ত্বকের যত্নে কোকোনাট মিল্ক এর উপকারিতা

  • কোকোনাট মিল্ক ত্বকের প্রিম্যাচিউর এজিং প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি স্কিন ইলাস্টিসিটি মেনটেইন করে। একটি বাটিতে কোকোনাট মিল্ক নিন। পরিষ্কার মুখে একটি কটন প্যাডের সাহায্যে পুরো মুখে, বিশেষ করে যেখানে যেখানে রিংকল পরার সম্ভাবনা বেশী, সেই সব স্থানে কোকোনাট মিল্ক লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিন।
  • রোদে পোড়া ত্বকে কোকোনাট মিল্ক খুবই কার্যকরী। এটি স্কিনের রোদে পোড়া ভাব, রেডনেস দূর করে এবং স্কিনে সুদিং ফিল দেয়। রাতের বেলা ঘুমানোর আগে পরিষ্কার মুখে ঠান্ডা কোকোনাট মিল্ক ত্বকের রোদেপোড়া স্থানে লাগিয়ে নিন। সারা রাত এটি রেখে দিয়ে সকালে ধুয়ে ফেলুন।
  • গ্লোয়িং স্কিন পেতে ২ টেবিল চামচ কোকোনাট মিল্কের সাথে ১ চিমটি হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। উপকরণ দুটি মিশিয়ে নিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। ১৫ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন।
  • সুপার ড্রাই স্কিনের সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের জন্যে কোকোনাট মিল্ক বেস্ট একটা উপাদান। সুপার গ্লসি এবং ময়েশ্চারাইজিং স্কিন পেতে, একটি বাটিতে ৩ টেবিল চামচ কোকোনাট মিল্ক, ১ টেবিল চামচ রোজ ওয়াটার, ১ চা চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। এই মাস্কটি পরিষ্কার মুখে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন এবং এরপর ধুয়ে ফেলুন।
  • স্কিন হোয়াইটেনিং ফেইস প্যাক বানাতে, একটি বাটিতে ১ টেবিল চামচ ওটসের গুঁড়ো নিন, এরপর এর মধ্যে ১ টেবিল চামচ গুঁড়ো দুধ নিন। এবার এর মধ্যে কোকোনাট মিল্ক যোগ করতে থাকুন, যতক্ষণ না মিশ্রণটি একটি থিক পেস্টে পরিণত হয়। পরিষ্কার মুখে এই প্যাকটি লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। ১৫ মিনিট পর হাতের সাহায্যে হালকা ম্যাসাজ করে স্কিনটা স্ক্রাব করে নিন ২ মিনিট। এরপর প্যাকটি ধুয়ে ফেলুন এবং টোনার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
  •  পিম্পলের দূর করার ক্ষেত্রে কোকোনাট মিল্ক বেশ কাজে দেয়। কোকোনাট মিল্ক কে ব্যবহার করুন স্কিন ক্লিঞ্জার হিসেবে। এটি পিম্পল এবং ব্রেকআউট থেকে মুক্তি দেয়।
  • সিল্কি এবং ময়েশ্চারাইজিং স্কিন পেতে, গোসলের পানিতে ১ কাপ কোকোনাট মিল্ক, হাফ কাপ রোজ ওয়াটার মিশিয়ে নিন। এই পানিটা দিয়েই গোসল সেরে নিন। আপনি নিজেই দেখতে পাবেন আপনার স্কিন কতোটা সফট এবং স্মুদ হয়ে গেছে।

চুলের যত্নে কোকোনাট মিল্ক  এর উপকারিতা

  • চুল পড়ার সমস্যায় যারা ভুক্তভোগী তাদের জন্যে কোকোনাট মিল্ক বেশ উপকারী। চুল পড়ার সমস্যায় যতগুলো প্যাক আমি ব্যবহার করেছি, তার মধ্যে কোকোনাট মিল্ক দিয়ে তৈরি এই মাস্কটিতে বেশি উপকার পেয়েছে। মাস্কটি তৈরি করতে ১ টি বাটিতে হাফ কাপ কোকোনাট মিল্ক, ১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল, ১ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস নিয়ে মিশিয়ে নিন। চুলে সিথি কেটে নিয়ে একটি কটন প্যাডের সাহায্যে চুলের গোড়া এবং পুরো চুলে মাস্কটি লাগিয়ে নিন। ৪০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।
  • কোকোনাট মিল্ক চুলের জন্যে একটি আদর্শ কন্ডিশনার। এটি চুলকে সফট এবং থিক করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ঝামেলা এড়াতে চাইলে শুধুমাত্র কোকোনাট মিল্ক নিয়ে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগিয়ে নিন। এরপর ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে নিন। ব্যস!
  • ড্রাই, ড্যামেজ চুলের জন্যে কোকোনাট মিল্ক বেশ উপকারী। একটি কাঁচের বাটিতে কোকোনাট মিল্ক নিয়ে সারারাত ফ্রিজে রেখে দিন। পরদিন এটি জমে শক্ত হয়ে যাবে। এই জমে যাওয়া কোকোনাট মিল্ক নিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে নিন। এরপর শাওয়ার ক্যাপ পরে নিন। ২০ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেলুন। আপনার ড্রাই এবং ড্যামেজ হেয়ার তখন সফট এবং সিল্কি। এটি চুল সফট করার পাশাপাশি হেয়ার স্ট্রেইট করতেও হেল্প করে।
  • চুলের আগা ফাঁটা অনেকের কাছেই একটি ভয়াবহ নাম। এই আগা ফাঁটার কারণেই চুল লম্বা করতে চাইলেও সহজে লম্বা হতে চায় না। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোকোনাট মিল্ক। একটি পরিষ্কার বাটিতে ১/৪ কাপ কোকোনাট মিল্ক, ১/৪ কাপ ফুটানো ঠান্ডা পানি, ১ টেবিল চামচ কোকোনাট অয়েল, ১ টেবিল চামচ আমন্ড অয়েল নিয়ে খুব ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
  • এবার একটি স্প্রে বোতলে মিশ্রণটি ঢেলে নিন। শ্যাম্পুর আগে পুরো চুলে ভালোভাবে এই মিশ্রণটি স্প্রে করে নিন। ২০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে নিন। এটি চুলের আগা ফাটা দূর করে চুলকে স্ট্রং করে তোলে।

এইতো জেনে নিলেন, ত্বক ও চুলের যত্নে কোকোনাট মিল্কের উপকারীতা এবং ব্যবহার সম্পর্কে। আশা করছি আপনাদের অনেক কাজে আসবে।

লিখেছিলেন – জান্নাতুল মৌ

দ্রুত নখ বৃদ্ধির “সিক্রেট” উপায়

ত্বক এবং চুলের যত্ন নিয়মিতই করা হয়। ত্বক,চুল সবই সুন্দর। কিন্তু হাতের সৌন্দর্য যে নখ, তা-ই তো আমার নেই। কারণ নখ বড়ই হচ্ছে না। একটু বড় হলেও তা আবার ভেঙে যাচ্ছে।  সবাই নখের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যে কত নেইলপলিশ, নেইল আর্ট করছে। কিন্তু আমার তো নখই বড় হয় না। এসব করবো কি করে! এইসব ভাবনা অনেক নারীর মনেই রয়েছে। নখ বড় হচ্ছে না। কী করা যায়!  এর আগে এই নখের দ্রুত বৃদ্ধি নিয়ে বেশ কয়েকটি আর্টিকেল প্রকাশ করা হয়েছে। তবে আজ আমি নিজের সিক্রেট রেসিপিটি আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

নখ বড় করার ক্ষেত্রে প্রথম দুটি ধাপ সাজগোজের বন্ধুদের অজানা নেই। তারপরও একটু ঝালিয়ে নিলে মন্দ হয় না। কি বলুন? সহজ এবং জানা এই পদ্ধতির পর জানাব অয়েলিং রেসিপিটি কীভাবে তৈরি এবং ব্যবহার করবেন।

ধাপ ১

প্রথম ধাপে যে কাজটি করতে হবে তা হলো কিউটিকল পুশিং। নখের গ্রোথ বৃদ্ধির জন্যে নখের কিউটিকল পুশ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি কিউটিকল পুশারের সাহায্যে নখের কিউটিকলগুলো আস্তে আস্তে পুশ করতে থাকুন। একটু সাবধানে করবেন কাজটি।  আর এই কাজটি আবার প্রতিদিন করতে যাবেন না। সপ্তাহে একদিন করলেই যথেষ্ট।

ধাপ ২ 

এই ধাপে যা করতে হবে, তা হলো – একটি নেইল সোকিং সল্যুশন তৈরি করতে হবে।

এজন্যে আমাদের যা যা লাগবে –

(১) অলিভ অয়েল – অলিভ অয়েল নখের ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং নখকে নারিশ করে। এতে রয়েছে ভিটামিনস যা, ব্লাড সার্কুলেশন বৃদ্ধি করে এবং নখের ড্যামেজ রোধ করে। এছাড়াও এটি নখের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

(২) লেবুর রস – লেবুর রস নখকে শক্ত করতে সাহায্যে করে, যার ফলে নখ ভেঙে যাওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

(৩) লবন – লবন ব্যাক্টেরিয়া জনিত জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে।

(৪) গরম পানি।

সল্যুশনটি ব্যবহারের নিয়ম:

– একটি পরিষ্কার বোল নিয়ে এর মধ্যে গরম পানি ঢেলে নিন। পানিটা এমন গরম হবে, যার মধ্যে আপনি আপনার হাত চুবাতে পারবেন।

– এবার এর মধ্যে অর্ধেকটা লেবুর রস,  ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল এবং ১ টেবিল চামচ লবন মিশিয়ে নিন।

– হাতের আঙুলগুলো এই সল্যুশনে ডুবিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। এরপর হাতটা পরিষ্কার টাওয়ালে মুছে নিন। ধোয়ার প্রয়োজন নেই।

ধাপ  ৩ (সিক্রেট রেসিপি)

৩য় যে ধাপটার কথা বলব তা হলো নেইল অয়েলিং। এজন্যে লাগবে মাত্র ৩ টি উপকরণ।  এগুলো হলো –

(১) রসুন কোয়া – রসুন নখের গ্রোথের জন্যে খুব কাজের। এটি নখের গ্রোথকে বুস্ট করে। রসুনে আছে এ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যার ফলে নখের বৃদ্ধি হয় এবং এটি নখের ব্যাক্টেরিয়া জনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

(২) অলিভ অয়েল – অলিভ অয়েল নখের ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং নখকে নারিশ করে। এতে রয়েছে ভিটামিনস যা, ব্লাড সার্কুলেশন বৃদ্ধি করে এবং নখের ড্যামেজ রোধ করে। এছাড়াও এটি নখের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

(৩)  অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপার।

নেইল অয়েলিং করার নিয়ম:

– ৩ কোয়া বড় রসুন নিয়ে এগুলো ভালোভাবে থেতলে নিন। এবার এর মধে ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি একটি বোতলে ভরে নিন। এটি ১০ দিন নরমাল ফ্রিজে ভালো থাকবে।

– ২য় ধাপ অনুসরণর পর এই অয়েলটি নিয়ে নখে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন।

– এবার একটি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপার নিয়ে ছোট ছোট পাঁচটি টুকরা করে কেটে নিন। এই টুকরাগুলো প্রত্যেকটি আঙুলে নখের চারপাশে পেঁচিয়ে নিন। এভাবে ৩০ মিনিট রেখে দিবেন।

– ৩০ মিনিট পর যেকোনো মাইল্ড সোপ দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নিয়ে হাত মুছে নেবেন।

প্রথম ধাপটি বলেছি সপ্তাহে একদিন করলেই চলবে। কিন্তু ২য়  এবং ৩য় ধাপ কিন্তু প্রতিদিন ফলো করতে হবে। যদি দ্রুত লম্বা নখ চান, তবে আবারো বলছি প্রতিদিন ফলো করবেন।

আশা করছি ৭-১০ দিনের মধ্যেই আপনার কাঙ্ক্ষিত রেজাল্ট পেয়ে যাবেন।

ছবি –  পিন্টারেস্ট ডট কম, মেকওভার মাস্টার ডট কম

লিখেছেন – জান্নাতুল মৌ

Comments

comments