ডিম দিয়ে তৈরি ফেসিয়াল ওয়াক্সআমরা জানি, ডিমের সাদা অংশটি অনেকটাই চিনি, লেবু কিংবা মধু দিয়ে তৈরি যেকোনো মিশ্রণের মতোই আঠালো। আপনি যখন এ উপকরণগুলো ব্যবহার করবেন, তখন এটি শুকানোর পর সহজেই মুখের ত্বকের ধুলা-ময়লা উঠে যায়। মুখের অতিরিক্ত লোম দূর করার জন্যই উপকারী ডিমের তৈরি ফেসিয়াল ওয়াক্স।

প্রস্তুত ও ব্যবহার প্রণালি

এর জন্য প্রয়োজন চা চামচের অর্ধেক কর্ন ফ্লাওয়ার, একটি ডিম, চিনি ২ টেবিল চামচ ও একটি পাত্র। ডিম থেকে কুসুম বের করে এর সঙ্গে কর্ন ফ্লাওয়ার ও চিনি মিশিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন। এর পর পুরো মুখে প্যাকটি লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। প্যাকটি শুকিয়ে যাওয়ার পর হাত দিয়ে ওপরের আবরণটি আলতো করে টেনে তুলে ফেলুন। এভাবেই মুখের অবাঞ্ছিত লোমগুলো শুকনো আবরণটির সঙ্গে উঠে যাবে। প্রয়োজনমাফিক প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন মুখের অতিরিক্ত লোম ওঠাতে।

কাজের ফাঁকে যে রুপচর্চা সহজেই করতে পারবেন; জেনে নিন ট্রিকসগগুলো

প্রাত্যাহিক জীবনে কাজের চাপ সবসময় থাকবে। যার জন্য অনেকেই রূপচর্চা করার সময় পায় না। সেটা শিক্ষার্থীর জন্য হোক কিংবা চাকরিজীবী জন্য। তার উপর অন্যান্য কাজেও বাইরেও মাঝে মাঝে যেতে হচ্ছে, রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঘুরতেহচ্ছে। ত্বকের ক্ষতি হবে জেনেও সময়ের অভাবে রূপচর্চা (Roopchurch) ঠিক মতো করা হয় না অনেকেরই। এই ব্যস্ততার মাঝে নিজের রূপচর্চার কথা ক’জনেরই বা মনে থাকে। তাই ঝটপট কিছু রুপচর্চা ট্রিকস জেনে নিন।

⇒ কাজের ফাঁকে সময়টাতেই চাইলে সেরে নেওয়া যায় চটজলদি রূপচর্চা। সকাল ৮টা সাড়ে ৮টায় বের হওয়ার সময়নিজের হালকা মেকআপটাও ঠিকমতো করে আসা যায় না। সেখানে বাইরে বসে রূপচর্চা করাটা কঠিন মনে করেন সবাই। রাস্তার জ্যাম ঠেলে বাড়ি ফিরতে ফিরতে দেরি হয়ে যায়,শরীরজুড়ে থাকে ক্লান্তি। তখন আর কারোই বা ইচ্ছে করে রূপচর্চা নিয়ে মাথা ঘামাতে।

⇒দিনের বড় একটা সময় যেহেতু বাইরেই কেটে যায় সে কারণে বাইরে কাজের ফাঁকে বসেই সেরে নেওয়া উচিত ত্বকের যত্ন (Skin care)।চাইলে অবসর বের করে নেওয়াসম্ভব, যার পুরোটাই নির্ভর করে নিজের উপর। খুব অল্প সময়ে নিজেকে রিফ্রেশ করে নেওয়া সম্ভব। তবে এরজন্য সঙ্গে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস রাখতে হবে। যেমন—ফেসওয়াশ, সানস্ক্রিন, টিস্যু বা রুমাল এবং প্রয়োজনীয় কসমেটিকস।

⇒ কসমেটিকস এমনিতেও অনেকে সাথে রাখেন সবসময়, তবে তার সাথে রূপচর্চা করবার বাকি জিনিসগুলোও ব্যাগেই রাখতে পারেন। ব্যাগের আলাদা পকেটে বা একটা ছোট ব্যাগে ভরে রেখে দিন। সময়-সুযোগ বুঝে সেগুলো ব্যবহার করুন।

⇒ ভার্সিটি বা অফিসে সাধারণত এসির ভেতর থাকতে হয়। এতে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয় বেশি। আর তৈলাক্ত ত্বক আরও বেশি চিটচিটে হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে সুযোগ পেলেঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিয়ে মুখ ধুয়ে নেবেন। আর মুখ তেলতেলে হলে টিস্যু বা রুমাল দিয়ে মুখ মুছে নেবেন।

⇒ একটা ছোট আয়না সবসময় সঙ্গে রাখলে ভালো হয়। এতে মাঝে মাঝে আয়নায় দেখে নেয়া যায় আপনার মেকআপ (Makeup), চুল ঠিক আছে কি না। হালকা মেকআপ করেই সবাই ঘর থেকে বের হয়।তবে ভার্সিটি বা অফিস দূরে হলে জার্নিতে মেকআপ নষ্ট হয়ে যায়, মুখে ক্লান্তির ভাব এসে যায়। অফিস বা ভার্সিটিতে ঢুকেই একটু ফ্রেশ হয়ে নেওয়া ভালো।

⇒ দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে ঠোঁট শুকিয়ে যায়। তাই মাঝে একবার লিপস্টিক মুছে নতুন করে লাগান, অথবা ভেসলিন ব্যবহার করুন, ফ্রেশ দেখাবে।

রুপচর্চায় শসার ৫টি ব্যবহার ও যেভাবে ব্যবহার করবেন

শসার গুণের কথা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। শসা যেমন রান্না-বান্নায়, খাওয়া-দাওয়ায় ব্যবহৃত হয় তেমনি ব্যবহৃত হয় রূপচর্চায়।

ক. মুখে কোনো কালো দাগ পড়লে কচি শসার রস মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নেবেন। এভাবে কিছুদিন নিয়মিত লাগালে দাগ উঠে যায়।

খ. শসার রসের সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মুখে মেখে শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিলে মুখের রং উজ্জ্বল ও কোমল হয়। তবে নিয়মিত কিছুদিন করতে হবে।

গ. অনেক সময় দেখা যায় চোখের নিচে অনেকেরই কালো দাগ পড়ে। শসার রস নিয়মিত মাখলে এ দাগ দূর হবে।

ঘ. মনে রাখবেন যদি কেউ ফর্সা হতে চান তবে নিয়মিত শসার রসের সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে, হাতে ও গায়ে নিয়মিত মাখলে গায়ের রং ফর্সা হয় অথবা শসা পাতলা পাতলা করে কেটে মুখে ঘসে নিতে পারেন। পরে শুকোলে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নেবেন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্যে শসা খুবই উপকারী। তবে কাঁচা ব্রণের ওপর লেবুররস লাগালে দাগ হয়। তার জন্যে শুধু শসার রসই ভালো।

ঙ. মুখকে রোদ থেকে বাঁচাতে, মুখের দাগ তুলতে ও ময়লা থেকে যদি রেহাই পেতে চান তবে শসার সাহায্যে একটি ফেসপ্যাক বানিয়ে ২৫/৩০ মিনিট রেখে প্রথমে গরম পানি,পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিয়ে আপনি নিশ্চিন্তে বাইরে বেড়িয়ে আসতে পারেন। এতে ত্বক সারাদিনের জন্যে যেমন চকচকে, মসৃণ ও কোমল থাকবে তেমনি বাইরের নানান জীবাণু থেকে ত্বক রেহাই পাবে।

এবার জেনে নিন কীভাবে প্যাকটি তৈরি করবেন

একটি কচিশসা পাতলা করে কেটে থেঁতো করে তার সাথে একটি ডিমের কাঁচা কুসুম, এক টেবিল চামচ গুঁড়ো দুধ মিশিয়ে মিক্সার মেশিন অথবা ব্লেন্ডারে মিশিয়ে নিয়ে মুখে, গলায় ও হাতে মেখে নেবেন। ব্লেন্ডার না থাকলে হাতেই ভালো করে মিশিয়ে নেবেন।

Comments

comments