ত্বক থেকে বয়সের ছাপ দূর করতে , ঝুলে যাওয়া ত্বককে টানটান করতে কিংবা ত্বকের তারুণ্য ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্রতিমাসে অনেকগুলো টাকা খরচ করে অ্যান্টি এজিং ক্রিম বা সিরাম কেনেন । যদিও ফলাফল তেমন পান না ।

একটা সাময়িক ফল পাওয়ার পর আবারও অবস্থা আগের মত । জেনে নিন ৩টি অতি সাধারণ অ্যান্টি এজিং উপাদানের কথা যা প্রত্যেকের ঘরে আছে । এসব ব্যবহারে খুব অল্প দিনেই আপনার ত্বক হয়ে উঠবে তারুণ্যের দীপ্তিভরা !

১/ হাত বাড়ান লেবুর দিকে –

লেবুতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি , যা ত্বকে কোলাজেনের উৎপাদন বৃদ্ধি করে ও ত্বকের টানটান ভাব ফিরিয়ে দেন । পাকা লেবুর রস নিংড়ে নিন , তাজা রস তুলো দিয়ে মুখে লাগান । ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন ও ময়েশচারাইজার লাগিয়ে নিন । রোজ করুন এই কাজটি ।

২/ নারিকেল তেল অনন্য উপাদান –

সকালে ও রাতে মুখে নারিকেল তেলের ম্যাসাজ ফিরিয়ে দেবে ত্বকের তারুণ্য । অল্প কয়েক ফোঁটা তেল নিন , ঘুমাবার আগে মুখে ম্যাসাজ করে ঘুমান । সানব্লক হিসাবেও ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন বিশুদ্ধ নারিকেল তেল , ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়ক ।

৩/ ডিমের একটি দারুণ ফেসপ্যাক –

দুটি ডিমের সাদা অংশ , দুই টেবিল চামচ টক দই ও সামান্য চিনি একসাথে মিশিয়ে নিন । এই ফেস প্যাক মুখে , গলায় ও হাতে মাখুন । ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন , দারুণ এই ফেস প্যাক অল্প কিছু দিনেই আপনার ত্বক করে তুলবে তরুণ ও সুন্দর । সপ্তাহে অন্তত ৩ বার করুন ।

বয়স-উচ্চতা অনুযায়ী আদর্শ ওজন কত হওয়া উচিত ?

আমরা কোনো কিছু না ভেবে শুধু দেখেই কাউকে মোটা বা চিকন বলে থাকি। আসলে কিন্তু ব্যাপারটি মোটেই তা নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই নির্ণয় করে কাউকে রোগা বা মোটা বলা হয়ে থাকে। উচ্চতার সাপেক্ষে প্রতিটি মানুষের আছে একটি আদর্শ ওজন। ধারনা করা হয় যে ওজন যদি এই আদর্শ মাত্রায় থাকে, অর্থাৎ এর চাইতে বেশি বা কম না হয়ে থাকে, তাহলে মানুষটি সুস্থ দেহের অধিকারী।

আদর্শ ওজন নির্ণয়ের পদ্ধতিতে একজন ব্যক্তির ওজন কিলোগ্রামে মাপা হয় এবং উচ্চতা মিটারে মাপা হয়। এবার ওজনকে উচ্চতার বর্গফল দিয়ে ভাগ করা হয়। এই ভাগফলকে বলে বিএমআই। বিএমআই ১৮ থেকে ২৪-এর মধ্যে হলে স্বাভাবিক। ২৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে হলে স্বাস্থ্যবান বা অল্প মোটা, ৩০ থেকে ৩৫-এর মধ্যে হলে বেশি মোটা। আর ৩৫-এর ওপরে হলে অত্যন্ত ও অসুস্থ পর্যায়ের মোটা বলা যেতে পারে।
অতিরিক্ত ওজন কিংবা অতি কম ওজন কারোই কাম্য নয়। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন বেঁটে কিন্তু মোটা, আবার অনেকে খুব লম্বা কিন্তু যেন তালপাতার সেপাই। এরকম অবস্থা মানে উচ্চতা অনুযায়ী তাঁদের ওজন ঠিক নেই। আপনার ওজন বেশি না কম, নাকি তা ঠিকই আছে তা বুঝতে হলে জেনে নিন উচ্চতা অনুযায়ী আপনার ওজন কতো :

উচ্চতা পুরুষ(কেজি) নারী(কেজি)

►৪’৭” —— ৩৯-৪৯ —– ৩৬-৪৬

►৪’৮” —— ৪১-৫০ —– ৩৮-৪৮

►৪’৯” —— ৪২-৫২ —– ৩৯–৫০

►৪’১০” —— ৪৪-৫৪ —– ৪১–৫২

►৪’১১” —— ৪৫-৫৬ —– ৪২-৫৩

►৫ফিট —— ৪৭-৫৮ —– ৪৩-৫৫

►৫’১” —— ৪৮-৬০ —– ৪৫-৫৭

►৫’২” —— ৫০-৬২ —– ৪৬-৫৯

►৫’৩” —— ৫১-৬৪ —– ৪৮-৬১

►৫’৪” —— ৫৩-৬৬ —– ৪৯-৬৩

►৫’৫” —— ৫৫-৬৮ —– ৫১-৬৫

►৫’৬” —— ৫৬-৭০ —– ৫৩-৬৭

►৫’৭” —— ৫৮-৭২ —– ৫৪-৬৯

► ৫’৮” —— ৬০-৭৪ —– ৫৬-৭১

► ৫’৯” —— ৬২-৭৬ —– ৫৭-৭১

►৫’১০” —— ৬৪-৭৯ —– ৫৯-৭৫

►৫’১১” —— ৬৫-৮১ —– ৬১-৭৭

►৬ ফিট —— ৬৭-৮৩ —– ৬৩-৮০

►৬’১” —— ৬৯-৮৬ —– ৬৫-৮২

►৬’২” —— ৭১-৮৮ —– ৬৭-৮৪

শরীর অতিরিক্ত রুগ্ন হলে দেখতে খারাপ তো লাগেই, সাথে চেহারায় দ্রুত বলিরেখা পড়ে। অতি রুগ্ন মানুষ অপুষ্টির শিকার। ফলে পুষ্টি জনিত নানাবিধ রোগ, যেমন- অ্যানিমিয়া বা রক্ত শুন্যতা, শারীরিক দুর্বলতা, নানান রকম চর্মরোগ ইত্যাদি হওয়ার প্রবল সম্ভাবন থাকে। অপুষ্টির শিকার হলে চুল পড়ে যাওয়া, দাঁত নষ্ট হয়ে যাওয়া, হাড় খয়ে যাওয়া সহ নানা রকম রোগ হতে পারে।

আবার শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলে মানুষ মোটা হয় বা ভুঁড়ি হয়। ফ্যাট সেল বা চর্বিকোষ আয়তনে বাড়ে তখন শরীরে চর্বি জমে। পেটে, নিতম্বে, কোমরে ফ্যাট সেল বেশি থাকে। অতিরিক্ত খাওয়ার জন্য দেহে চর্বি জমে, আবার যে পরিমাণ খাওয়া হচ্ছে বা দেহ যে পরিমাণ ক্যালরি পাচ্ছে সে পরিমাণ ক্ষয় বা ক্যালরি খরচ হচ্ছে না-এ কারণেও দেহে মেদ জমতে পারে। এগুলো শোনার বা জানার পর অনেকে হয়তো বলবেন, সঠিক পরিমাণে খাদ্য গ্রহণের পরও ওজন বেশি। তাদের অভিযোগ সঠিক। বংশগত কারণেও মানুষ মোটা হতে পারে।

একবার মুখে মাখলেই বয়স কমবে ১০ বছর

মুখে বলিরেখা ও কুঁচকানো ভাব কেউই পছন্দ করে না। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সবারই মুখে ভাঁজ পড়ে। কারোর বয়স Age হয়েছে এটা থেকে সহজেই বোঝা যায়। কেউ এটা থেকে রক্ষা পান না। বয়সের ছাপ কমাতে অনেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কিন্তু এতে অনেক সময় হিতে বিপরীত হয়।
তবে আপনার ত্বক আরো উজ্জ্বল ও প্রাণদীপ্ত করতে বিশেষজ্ঞরা গোপন একটি রহস্যের কথা বলেছেন, যেটা জাপানি নারীরা করে থাকেন। আপনি হয়তো দেখবেন – বয়স বাড়লেও জাপানি নারীরা বুড়িয়ে যান না। তাদের চির তরুণীর মতো লাগে, টাইট ত্বকে ছড়িয়ে পড়ে সৌন্দর্যের আভা।

এ পদ্ধতি মানলে মাত্র এক সপ্তাহে আপনিও জাপানি নারীদের মতো হবেন প্রাণবন্ত এবং পেতে পারেন ‘ চির যৌবন ’। এ জন্য আপনাকে বেশি অর্থ বা উপাদান দরকার হবে না। চায় শুধু ভাত। আপনার ত্বক আরো উজ্জ্বল ও কুঁচকানো ভাব দূর করতে কাজে দেবে ভাত। আপনার ত্বককে সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার করবে এবং মুখে Face থাকা কালো দাগ দূর করে সতেজতা বাড়াবে ভাতের উপাদান।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভাতে প্রচুর পরিমাণ লাইনোলিক অ্যাসিড থাকে। এতে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাউডারও বিদ্যমান। লাইনোলিক অ্যাসিড ত্বকের কোষে কোলাজেন উৎপাদন করে। এটা আপনার ত্বকে ভাঁজ পড়া ও কুঁচকে যাওয়া রোধ করে আপনাকে তরুণী করে তোলে। সপ্তাহে একবার করে মুখমণ্ডলে মাখলে আপনার ১০ বছর বয়স কম লাগবে !

যেভাবে উপাদানটি তৈরি করবেন ?
তিন টেবিল চামচ ভাত মধ্যম গরমের এক কাপ পানির মধ্যে ঢালুন। দুই থেকে তিন মিনিট সেখানে রাখুন। এপর নাড়ুন। এর সঙ্গে এক টেবিল চামচ দুধ ও মধু যোগ করুন। এগুলো ভালো করে মেশান এবং মুখমণ্ডলে ওই উপাদান ভালো করে লাগিয়ে দিন। এটা না শুকানো পর্যন্ত ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর পানি দিয়ে মুখমণ্ডল ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করুন দেখবেন আপনি দিন দিন বুড়িয়ে যাওয়া নয়, আরো তরুণী হয়ে উঠছেন।

Comments

comments