প্রাচীন কাল থেকে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে নারীর সৌন্দর্য বর্ধনের চর্চায় এবং আয়ুর্বেদ চিকিৎসায়। সেই সাথে মধু একটি সুস্বাদু খাদ্যও বটে। আসুন আজ আমরা জেনে নেই মধুর আশ্চর্য ১৫ টি ব্যবহার সম্পর্কে।

১. মধু একটি অত্যন্ত ভারি যৌগিক পদার্থ হওয়ার কারণে এটি আপনার ত্বকের আদ্রতা বজায় রেখে আপনার ত্বককে করে তুলবে আরও নমনীয় ও কোমল।

২. এটি আপনার ত্বকের মৃত কোষগুলোকে দূরে রেখে ত্বকের বলীরেখা কমাতে সাহায্য করবে। যার ফলে আপনার ত্বক দেখাবে আরও দীপ্তিময়।

৩. মধুতে আছে ব্যাকটেরিয়া বিরোধী উপাদান যা কিনা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে । তাই দেহের যেকোন ক্ষত এবং কাটাছেড়াতে আপনি মধু ব্যাবহার করতে পারেন কার্যকারী এন্টিসেপ্টিক হিসেবে।

৪. তাছাড়া মধু ব্যাবহার করতে পারেন কাটছেড়া পরিষ্কার করতে যা কিনা ব্যাথা নাশক হিসেবেও খুব কার্যকর।

৫. এটি ত্বকের ক্ষতিগ্রস্থ কোষ ঝেড়ে ফেলে নতুন কোষ গজাতে সাহায্য করে এবং মধু চর্মরোগ (একজিমা , খুজলি)চিকিৎসায়ও ফলপ্রসূ।

৬. মধু ত্বকের ছত্রাক জনিত রোগ নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকারী ।

৭. মধু  এন্টিওক্সিডেন্টে ভরপুর একটি উপাদান। যার মাধ্যমে আপনার ত্বক সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

৮. মধু অতি কার্যকরী একটি ময়েশ্চারাইজার যা আপনার মুখের ত্বককে টান টান রাখতে সাহায্য করে।

৯. মধু ব্যাবহারে শুষ্ক ও রুক্ষ ঠোঁট হয়ে উঠবে নরম ও কোমল।

১০. মধু ত্বকের উপরিভাগকে গভির থেকে থেকে পরিষ্কার করে এবং ব্রণ নিরাময় করতে সাহায্য করে।

১১. মধু আপনি ব্যবহার করতে পারেন চিনির বিকল্প হিসেবে। কারন মধুতে আছে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম ক্লোরিন, সালফার, আইরন এবং ফসফেট মত উপাদান। এই উপাদানগুলো শরীরের জন্য খুবই উপকারি।

১২. মধুকে মনে করা হয় স্বাদে এবং পুষ্টিতে অমৃতসম উপাদান। যাতে আছে ভিটামিন  B1, B2, C, B6, B5  এবং B3 ।

১৩. মধুতে আছে গ্লুকোজ এবং শর্করা যেগুলো আপনার শরীরে জোগাবে বাড়তি এনার্জি এবং সেই সাথে দূর করবে আপনার মানসিক ক্লান্তি।

১৪. মধু আপনার শরীরের কলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করবে।

১৫. শরীরের মেদ কমাতে মধু মহাঔষধের মত কাজ করে। নিয়মিত মধু সেবনে এটি আপনার শরীরের বাড়তি মেদ ঝরিয়ে শরীরকে দিবে একটি সুন্দর গড়ণ।

তাই সুস্থ শরীর ও সুন্দর রুপ লাবণ্যের অধিকারি হতে নিয়মিত মহৌষধি মধু পান করুন এবং রুপ চর্চায় ব্যাবহার করুন।

গোসলে গায়ে সাবান নয় মাটি মাখুন!

আপনি ভাবেন সাবান মাখলে আপনার ত্বক ভালো থাকবে। আপনি সুন্দর এবং টানটান হয়ে থাকবেন অনেক বয়স পর্যন্ত! তবে ইউরোপের ডাক্তারদের বক্তব্য, রোজ গোসল করছেন এটা খুবই ভালো। কিন্তু যে সাবান দিয়ে আপনি ঘসে ঘসে গা পরিষ্কার করছেন, চকচকে হচ্ছেন, সেটা কিন্তু আপনার ত্বকের জন্য মোটেই ভাল নয়।

সাবান মানেই খার। সেটা কম মাত্রা অথবা বেশি মাত্রা হতে পারে। কিন্তু রোজ শরীরে খার গেলে তা শরীরকে মোটেই চিরকাল ভালো রাখবে না। সাবান মাখার সুফল আজ অনুভব করছেন, তারচে’ বেশি কুফল টের পাবেন আগামীতে।

ডাক্তারদের পরামর্শ, গায়ে মাটি মাখুন। ত্বক আজ যেমন ভালো থাকবে, আগামীতেও ভালো থাকবে। গায়ে মাখার জন্য মাটির চাইতে ভালো আর কিছু নেই।

সিজার করে সন্তান হয়েছে? অবশ্যই জেনে রাখুন এসব তথ্য

প্রাকৃতিক উপায়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিবর্তে বর্তমানে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সিজারের সাহায্য নিতে দেখা যায়। কিন্তু সিজারের পর কী হয়, তার ব্যাপারে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। জেনে নিন সিজার করানোর ব্যাপারে দরকারি কিছু তথ্য।

সিজার করে সন্তান জন্ম দিলে চার দিনের মতো হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। এ ব্যাপারে প্রিয়.কম যোগাযোগ করে আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হসপিটালের ডাক্তার আয়েশা নূর মিলির সাথে। তিনি জানান, অনেক মা-ই জানেন না যে সিজার করানোর পরেও যৌনাঙ্গ থেকে রক্তপাত হয়। তবে এই রক্তপাতের পরিমাণ হবে সীমিত। খুব বেশি রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্গন্ধ এবং গাড় রঙের রক্ত যাচ্ছে কী না সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে, কারণ এগুলো ইনফেকশনের লক্ষণ।

সিজার করানোর পর মা-কে ভিটামিন এ খাওয়ানো হয়। তা খাওয়ানো হচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে মা এবং তার পরিবারকে সতর্ক থাকতে হবে।
সিজার করানোর পরে আরেকটি সমস্যায় মেয়েদের ভুগতে দেখা যায় তা হলো পরের দিন পা ফুলে যাওয়া। এক্ষেত্রে ঘুমানোর সময়ে বা শুয়ে থাকার সময়ে পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে পা একটু উঁচু করে রাখতে হবে। তাহলে পা ফোলা কমে যাবে।

সিজার করানোর পর অনেক মা-ই সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান না। সিজার করানোর পর তিন দিনের মাঝে বুকের দুধ না খাওয়ালে এ সময়ে স্তনে চাকা চাকা অনুভূত হয় এবং ব্যাথা হতে পারে। সমস্যার সমাধানে তোয়ালে গরম করে সেঁক দেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও দুধ বাচ্চাকে না দিলেও বের করে ফেলে দিতে হবে বা রেখে দিতে হবে।

আরেকটি ব্যাপার যা অনেক মা-ই জানেন না, তা হলো বুকের দুধ ফিডারে রেখে খাওয়ানো। মায়ের দুধ ফিডারে করে ফ্রিজে রেখে দিলে তা বাচ্চাকে দেওয়া যাবে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত। ঠাণ্ডা দুধ তো অবশ্যই বাচ্চাকে দেওয়া যাবে না। কিন্তু এটা চুলায় ফুটিয়ে বা ওভেনে গরম করেও দেওয়া যাবে না। প্রিয়.কমকে ডাক্তার নূর জানান, গরম পানিতে ফিডার রেখে এই দুধ গরম করে দিতে হবে। এ ছাড়াও সিজার করার পর আরও বেশ কিছু ব্যাপারে জেনে রাখা ভালো-

১) ক্যাথেটার
সিজার করানোর পর একটি ক্যাথেটার ব্যবহার করা হতে পারে তার শরীরে। এটা শুধু প্রথম দিনেই রাখা হয়। পরের দিন খুলে ফেলা হয়।

২) সেলাইয়ের দাগ
সেলাইয়ের দাগটা থেকে যায় অনেকদিন, অনেক বছর পর্যন্ত। তবে অস্ময়ের সাথে তা অনেক হালকা হয়ে যায়, আগের মতো উঁচুও হয়ে থাকে না। অপারেশনের পর এই কাটা দাগ শুকাতে দিতে হবে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ। পুরো শুকিয়ে গেলে তারপরেই কেবল দাগ দূর করার জন্য তেল মালিশ বা দাগ দূর করার ক্রিম লাগানো যেতে পারে।

৩) অপারেশনের পর টয়লেটের কাজ সারা
এটা বেশ বড়সড় একটা অপারেশন সুতরাং অনেকেই এই অপারেশনের পর টয়লেটের কাজ সারতে ভয় পান। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। প্রয়োজন হলে ডাক্তার কিছু ওষুধ দেবেন যা সহজে টয়লেটের কাজ সারতে সাহায্য করবে।

৪) হাঁটাচলা
সিজারের পর রক্ত জমাট বাঁধার ভয় যেন না থাকে তার জন্য পরের দিন হালকা হাঁটাচলা করাটা ভালো।

৫) শরীরে কাঁপুনি
শরীর থেকে অ্যানেসথেসিয়ার প্রভাব কেটে যাবার সময়ে অনেকের কাঁপুনি দেখা যায়। শরীরের নিম্নাগশে বিশেষ করে পায়ে অসাড়তা অনুভব হতে পারে। কয়েক ঘন্টার মাঝে এই অনুভুতি কেটে যাবার কথা।

৬) রক্তপাত
প্রাকৃতিকভাবে সন্তান জন্ম না দিলেও রক্তপাত হবেই। একে বলা হয় পোস্টপারটাম ব্লিডিং। এটা খুব বেশি হলে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।

৭) ভারী কাজ নিষেধ
বাচ্চার চাইতে ভারী কিছু আপনি তুলতে পারবেন না প্রথম ২-৩ সপ্তাহ। ৪-৬ সপ্তাহ ব্যায়াম বন্ধ। আর শারীরিক সম্পর্ক বন্ধ রাখতে হবে প্রথম ছয় সপ্তাহ।

৮) হাঁচি-কাশিতে ব্যাথা হতে পারে
সার্জারির পর হাঁচি-কাশি দিতে গেলে পেটে ব্যাথা লাগতে পারে। এ সময়ে পেটের ওপর বালিশ চেপে ধরে রাখলে ব্যাথা কম হবে। অনেকেই এ সময়ে বেল্ট পরে থাকেন। এই বেল্টও ব্যাথা কমাতে সহায়ক।  প্রথম সপ্তাহে এই সমস্যা বেশি হবে। পরে কমে যাবে।

Comments

comments